
দানিয়েলের পুস্তক
ভূমিকা
পুরাতন নিয়মের খুব চমৎকার এবং খুব গুরুত্বপূর্ণ বইগুলোর মধ্যে দানিয়েল একটি। এর মধ্যে আছে প্রতিমাপূজা থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, মশীহের বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী এবং ভবিষ্যতের ঘটনাগুলোর খুঁটিনাটির বিষয়ে আগেই সঠিকভাবে বলা। যে সব যিহূদী বন্দীদের ৬০৪ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে বাবিলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাদের মধ্যে দানিয়েল ছিলেন একজন বুদ্ধিমান ও সুন্দর যুবক। তাঁর নামের অর্থ হল “ঈশ্বরই আমার বিচারক”। তাঁর চরিত্র ও আচার-ব্যবহারের মধ্য দিয়ে দেখা যেত যে, তিনি সেই কথা মনে রেখে তাঁর জীবন যাপন করতেন। নবূখদ্নিৎসর ও বেলশৎসরের রাজ-দরবারে দানিয়েল ছিলেন একজন উঁচু পদের রাজকর্মচারী। মাদীয়-পারসীকেরা বাবিল অধিকার করে নিলে পর দারিয়াবস এবং পরে কোরসের অধীনে সেই দেশের তিনজন নেতার মধ্যে দানিয়েল ছিলেন একজন। নবীর লেখাগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে যার ফলে প্রথম ছয়টি অধ্যায়ের বেশীর ভাগ বর্ণনামূলক এবং শেষ ছয়টি অধ্যায়ের বেশীর ভাগ ভবিষ্যদ্বাণী সম্বন্ধে। দানিয়েল ২:৪ পদ থেকে ৭:২৮ পদ পর্যন্ত সেই সময়কার বাবিল সাম্রাজ্যের ভাষা অনুসারে অরামীয় ভাষায় লেখা হয়েছিল।
বিষয় সংক্ষেপ:
(ক) দানিয়েলের অটল বিশ্বস্ততা (১ অধ্যায়)
(খ) নবূখদ্নিৎসরের বিরাট প্রতিমার দর্শন (২ অধ্যায়)
(গ) নবূখদ্নিৎসরের সোনার প্রতিমা এবং আগুনের চুল্লী (৩ অধ্যায়)
(ঘ) গাছের বিষয়ে নবূখদ্নিৎসরের স্বপ্ন (৪ অধ্যায়)
(ঙ) বেলশৎসরের ভোজ এবং দেয়ালে লিখন (৫ অধ্যায়)
(চ) দারিয়াবসের হুকুম এবং সিংহের গর্ত (৬ অধ্যায়)
(ছ) চারটা জন্তুর বিষয়ে দানিয়েলের স্বপ্ন (৭ অধ্যায়)
(জ) পুরুষ ভেড়া ও পুরুষ ছাগল সম্বন্ধে দানিয়েলের দর্শন (৮ অধ্যায়)
(ঝ) 70 সপ্তাহ সম্বন্ধে দানিয়েলের দর্শন ৯ অধ্যায়)
(ঞ) ঈশ্বরের মহিমার দর্শন (১০ অধ্যায়)
(ট) যে ভবিষ্যদ্বাণী খুব শীঘ্র পূর্ণ হবে (১১:১-৩৫ পদ)
(ঠ) যে ভবিষ্যদ্বাণী অনেক পরে পূর্ণ হবে ১১:৩৬-১২:১৩ পদ)