
নবী যিশাইয়ের পুস্তক
ভূমিকা
যিশাইয় নামের অর্থ হল “সদাপ্রভুই পরিত্রাণ”। এই অর্থ থেকে পাঠক বইটার মূলভাব বুঝতে পারবেন। এই নবীর লেখার মধ্যে ২৬ বার “উদ্ধার” কথাটা আছে এবং অন্যান্য নবীদের সমস্ত লেখার মধ্যে আছে মাত্র ৭ বার। মানুষের জন্য পাপ থেকে উদ্ধারের যে বিশেষ প্রয়োজন তা ১-৩৯ অধ্যায়ের মধ্যে বলা হয়েছে এবং উদ্ধারের জন্য ঈশ্বর যা করেছেন তা ৪০-৬৬ অধ্যায়ে বর্ণনা করা হয়েছে। পবিত্র নূতন নিয়মে পুরাতন নিয়ম থেকে যত উদ্বৃতি দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে সংখ্যায় গীতসংহিতা প্রথম এবং যিশাইয় দ্বিতীয়। যিশাইয় নামে বইটা ঠিকভাবে বুঝতে পারলে দেখা যাবে যে, একটা জাতির সামাজিক জীবন তার ধর্মীয় জীবনের উপর নির্ভরশীল। যিশাইয় যিহূদা রাজ্যের লোকদের সাবধান করে বলেছিলেন যে, তাদের দুষ্টতার শাস্তি তাদের পেতেই হবে। তিনি এই কথাও প্রকাশ করেছিলেন যে, ঈশ্বর দয়া করে যিহূদী এবং অযিহূদীদের জন্য একজন উদ্ধারকর্তা পাঠিয়ে দেবেন।
বিষয় সংক্ষেপ:
(ক) যিশাইয়ের সময়ে শাস্তি ও আশীর্বাদের ভবিষ্যদ্বাণী (১-৩৫ অধ্যায়)
(1) যিহূদা ও যিরূশালেমের শাস্তি (১-৫ অধ্যায়)
(2) যিশাইয়ের আহ্বান, শুচিকরণ ও কাজের ভার দান (৬ অধ্যায়)
(3) ইম্মানূয়েল সম্বন্ধে (৭-১২ অধ্যায়)
(4) জাতিদের শাস্তি সম্বন্ধে (১৩-২৪অধ্যায়)
(5) কতগুলো গান (২৫-২৭ অধ্যায়)
(6) দুর্দশা ও পুনস্থাপন সম্বন্ধে (২৮-৩৫ অধ্যায়)
(খ) যিশাইয় পুস্তকের ঐতিহাসিক অংশ: হিষ্কিয়ের সম্বন্ধে (৩৬-৩৯ অধ্যায়)
(গ) ভবিষ্যতের বন্দীত্বের দৃষ্টিভংগি থেকে সান্ত্বনা দানকারী-ভবিষ্যদ্বাণী (৪০-৬৬ অধ্যায়)
(1) ভবিষ্যতে ইস্রায়েলীয়দের উদ্ধার (৪০-৪৮ অধ্যায়)
(2) মশীহের সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী এবং ইস্রায়েলীয়েরা তাঁকে অস্বীকার (৪৯-৫৭ অধ্যায়)
(3) ইস্রায়েলীয়দের পাপ, বিচার, অনুতাপ এবং পুনরুদ্ধার (৫৮-৬৬ অধ্যায়)