
নবী যিরমিয়ের পুস্তক
ভূমিকা
যিরমিয় “কাঁদুনে নবী” হিসাবে বিখ্যাত। আমরা যদি কথাটা মনে রাখি এবং তাঁর কান্নার কারণ জানি তবে তিনি যা বলেছেন তা আমরা বুঝতে পারব। যিরমিয় যখন ভবিষ্যতের কথা বলছিলেন তখন তিনটি দেশের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই চলছিল; দেশগুলো হল আসিরিয়া, মিসর ও বাবিল। ঈশ্বর যিরমিয়ের কাছে দু’টি বিষয় প্রকাশ করেছিলেন- যিহূদা যেন মিসরের কোন সন্ধির উপর নির্ভর না করে এবং যিহূদার পাপের ফলে বাবিলীয়েরা তাদের বন্দী করে নিয়ে যাবে আর 70 বছর বন্দী করে রাখবে। যিরমিয়কে যদিও অত্যাচারিত হতে হয়েছিল তবুও তিনি বিশ্বস্তভাবে ঈশ্বরের দেওয়া সংবাদ লোকদের কাছে ঘোষণা করেছিলেন। তিনি খুব মনোকষ্ট নিয়ে তাঁর বলা ধ্বংসের ও বন্দীত্বের ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ হতে দেখেছিলেন। জাতির বেশীর ভাগ লোককে বাবিলে নিয়ে যাওয়া হলেও যাদের দেশে থাকবার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল তাদের মধ্যে যিরমিয় ছিলেন একজন। দেশে থাকা লোকদের তিনি মিসরে পালিয়ে না যাবার উপদেশ দিয়েছিলেন। তারা তাঁর কথা শোনে নি এবং তাদের সংগে তাঁকেও সেখানে নিয়ে গিয়েছিল। তিনি মিসরেই মারা গিয়েছিলেন।
বিষয় সংক্ষেপ:
(ক) যিরমিয়কে কাজে নিযুক্ত করা ও কাজের ভার দেওয়া (1 অধ্যায়)
(খ) যিহূদার লোকদের পাপ সম্বন্ধে ও তাদের বন্দী থাকবার সময়ের জন্য উপদেশ (২-১০ অধ্যায়)
(গ) চিহ্ন হিসাবে যিরমিয়ের অভিজ্ঞতা (১১-১৯ অধ্যায়)
(ঘ) যিহূদার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যদ্বাণী (২০-২৩ অধ্যায়)
(ঙ) যিরূশালেমের ধ্বংস এবং বন্দীত্বের বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী (২৪-২৯ অধ্যায়)
(চ) যিহূদার পুনরুদ্ধার সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী (৩০-৩৩ অধ্যায়)
(ছ) ঐতিহাসিক অংশ (৩৪-৩৯ অধ্যায়)
(জ) অযিহূদী জাতিদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যদ্বাণী (৪০-৫১ অধ্যায়)
(ঝ) পরিশেষে: যিরূশালেমের পতন (৫২ অধ্যায়)