
হিতোপদেশ
ভূমিকা
হিতোপদেশ হল সাধারণ জ্ঞান শিক্ষা দেবার জন্য একত্র করা কতগুলো উপদেশ। এগুলো প্রধানতঃ বাক্য হিসাবেই লেখা হয়েছে, আবার কতগুলো উপদেশের কবিতা হিসাবেও লেখা হয়েছে। এগুলো লেখা হয়েছে যাতে যুবক-যুবতীরা সেই সব ভুল না করে যা তাদের চেয়ে বয়সে বড়রা করে গেছেন। হিতোপদেশের উদ্দেশ্য ১:১-৭ পদে বলা হয়েছে। সেই উদ্দেশ্যটার মোট কথা হল একজন যুবককে জ্ঞান ও সুবুদ্ধি দান করা যাতে সে জীবনে সুখী হয় এবং পাপ থেকে দূরে থাকে। এর বিশেষ পদ হল ৯:১০ পদ- “সদাপ্রভুর প্রতি ভক্তিপূর্ণ ভয় হল সুবুদ্ধির ভিত্তি; সেই পবিত্রজনকে জানতে পারলে বিচারবুদ্ধি লাভ হয়।” রাজা শলোমন ও অন্যান্যদের লেখা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে হিতোপদেশ বইটি লেখা হয়েছে- কিভাবে একটা ছোট ছেলেকে শাসন করতে হবে সেই সম্বন্ধে উপদেশ থেকে একটা রাজ্য শাসন সম্বন্ধে উপদেশ হিতোপদেশে আছে। এই বইয়ে অনেক ধরনের লোক সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়েছে- ঝগড়াটে স্ত্রীলোক, অহংকারী বোকা লোক, এমন লোক যার দোষ সম্বন্ধে তাকে বলা যায় না এবং আদর্শ স্ত্রী। জীবনের প্রতিদিনের ঘটনাগুলোর বিষয় আলোচনা করা হয়েছে, যেমন অভাব, ধন-সম্পদ, ছেলেমেয়েদের মানুষ করা, খোসামোদ করা, বাজে গল্প-গুজব করা, জমির মালিক, প্রতিবেশী, স্বাস্থ্য, সরকার, ঘুষ দেওয়া-নেওয়া এবং আরও অনেক অনেক বিষয়।
বিষয়-সংক্ষেপ:
(ক) ভূমিকা (১:১-৭ পদ)
(খ) সুবুদ্ধি ও নির্বুদ্ধিতা সম্বন্ধে শলোমনের উপদেশ (১:৮-৯:১৮ পদ)
(গ) প্রতিদিনকার জীবনের নৈতিকতা সম্বন্ধে শলোমনের উপদেশ (১০:১-২২:১৬ পদ)
(ঘ) জ্ঞানী লোকদের দেওয়া উপদেশ (২২:১৭-২৪:৩৪ পদ)
(ঙ) হিষ্কিয়ের লেখকদের দ্বারা সংকলিত শলোমনের উপদেশ (২৫:১-২৯:২৭ পদ)
(চ) আগূরের কথা (৩০ অধ্যায়)
(ছ) রাজা লমূয়েলকে তাঁর মায়ের শিক্ষাদান (৩১:১-৯পদ)
(জ) আদর্শ স্ত্রী ও মা সম্বন্ধে কবিতা (৩১:১০-৩১ পদ)