Swahili.Bible
Bible Society of Kenya
Bible Society of Kenya
Madaraka, Nairobi
PO Box 72983
Tel: 254 20602807
E-mail: info@biblesociety-kenya.org

1
শমূয়েলের জন্ম
1ইফ্রয়িমের পাহাড়ী এলাকায় রামাথয়িম-সোফীম শহরে ইল্কানা নামে একজন লোক ইফ্রয়িম-গোষ্ঠীর লোকদের সংগে বাস করতেন। তাঁর বাবার নাম ছিল যিরোহম। যিরোহম ছিলেন ইলীহূর ছেলে, ইলীহূ ছিলেন তোহের ছেলে এবং তোহ ছিলেন সুফের ছেলে। 2ইল্কানার দুইজন স্ত্রী ছিল; একজনের নাম হান্না আর অন্যজনের নাম পনিন্না। পনিন্নার ছেলেমেয়ে হয়েছিল কিন্তু হান্নার কোন ছেলেমেয়ে হয় নি। 3ইল্কানা প্রত্যেক বছর তাঁর শহর থেকে শীলোতে যেতেন। তিনি সেখানে গিয়ে সর্বক্ষমতার অধিকারী সদাপ্রভুর উপাসনা ও তাঁর উদ্দেশে পশু-উৎসর্গ করতেন। তখন সেখানে পুরোহিত এলির দুই ছেলে সদাপ্রভুর পুরোহিত ছিল। তাদের নাম ছিল হফ্নি ও পীনহস। 4পশু-উৎসর্গের দিনে ইল্কানা তাঁর স্ত্রী পনিন্না ও তাঁর সব ছেলেমেয়েদের তাঁর উৎসর্গ করা মাংসের একটা করে ভাগ দিতেন। 5কিন্তু হান্নাকে দিতেন দুই ভাগ, কারণ তিনি হান্নাকে ভালবাসতেন। সদাপ্রভু কিন্তু হান্নাকে বন্ধ্যা করে রেখেছিলেন। 6সদাপ্রভু তা করেছিলেন বলে তাঁর সতীন তাঁকে খোঁচা মেরে কথা বলে তাঁর মন অস্থির করে তুলত। 7বছরের পর বছর এইভাবেই চলছিল। হান্না যখনই সদাপ্রভুর ঘরে যেতেন পনিন্না তাঁকে ঐভাবে খোঁচা মেরে কথা বলত। তাই তিনি কান্নাকাটি করতেন আর কিছুই খেতেন না। 8এ দেখে তাঁর স্বামী ইল্কানা তাঁকে বলতেন, “হান্না, তুমি কেন কাঁদছ? কেন কিছু খাচ্ছ না? কেন তোমার এত দুঃখ? আমি কি তোমার কাছে দশটা ছেলের চেয়েও বেশী নই?”
9এক সময় শীলোতে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে হান্না উঠে উপাসনা-ঘরে গেলেন। পুরোহিত এলি তখন সদাপ্রভুর সেই ঘরের দরজার কাছে একটা আসনে বসে ছিলেন। 10মনের কষ্টে হান্না সদাপ্রভুর কাছে খুব কেঁদে কেঁদে প্রার্থনা করতে লাগলেন। 11তিনি সদাপ্রভুর কাছে মানত করে বললেন, “হে সর্বক্ষমতার অধিকারী সদাপ্রভু, তুমি যদি তোমার এই দাসীর মনের কষ্টের দিকে চেয়ে দেখ এবং আমার প্রতি মনোযোগ দাও আর আমাকে ভুলে না গিয়ে যদি তোমার এই দাসীকে একটা ছেলে দাও তবে সারা জীবনের জন্য আমি তাকে তোমার উদ্দেশে দান করব। তার মাথায় কখনো ক্ষুর লাগানো হবে না।”
12হান্না অনেকক্ষণ ধরে সদাপ্রভুর কাছে যখন প্রার্থনা করছিলেন তখন এলি তাঁর মুখের দিকে লক্ষ্য করছিলেন। 13হান্না মনে মনে প্রার্থনা করছিলেন বলে তাঁর ঠোঁট নড়ছিল কিন্তু গলার আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল না। সেইজন্য এলি ভাবলেন স্ত্রীলোকটি মাতাল হয়েছে। 14তিনি তাঁকে বললেন, “তুমি মদ খেয়ে আর কতক্ষণ নিজেকে মাতাল করে রাখবে? মদ আর খেয়ো না।”
15উত্তরে হান্না তাঁকে বললেন, “হে আমার প্রভু, তা নয়। আমি বড় দুঃখিনী; আমি আংগুর-রসও খাই নি, মদও খাই নি। আমি সদাপ্রভুর সামনে আমার অন্তর ঢেলে দিচ্ছিলাম। 16আপনার এই দাসীকে আপনি একজন বাজে স্ত্রীলোক মনে করবেন না। গভীর দুশ্চিন্তা ও মনের কষ্টে আমি এতক্ষণ প্রার্থনা করছিলাম।”
17তখন এলি বললেন, “তোমার মন শান্ত হোক। ইস্রায়েলীয়দের ঈশ্বরের কাছে তুমি যা চেয়েছ তা যেন তিনি তোমাকে দেন।”
18হান্না বললেন, “এই দাসীর উপর আপনার দয়া থাকুক।” এই বলে তিনি চলে গেলেন এবং খাওয়া-দাওয়া করলেন। তাঁর মুখে আর দুঃখের ছায়া রইল না।
19পরের দিন ভোরে তাঁরা ঘুম থেকে উঠে উপাসনা-ঘরে গিয়ে সদাপ্রভুর উপাসনা করলেন। তারপর তাঁরা রামায় তাঁদের নিজেদের বাড়ীতে ফিরে গেলেন। পরে ইল্কানা তাঁর স্ত্রী হান্নার সংগে মিলিত হলেন আর সদাপ্রভুও হান্নার দিকে মনোযোগ দিলেন। 20তাতে হান্না গর্ভবতী হলেন এবং সময় হলে তাঁর একটি ছেলে হল। “আমি সদাপ্রভুর কাছ থেকে তাকে চেয়ে নিয়েছি,” এই বলে হান্না ছেলেটির নাম রাখলেন শমূয়েল।
শমূয়েলকে ঈশ্বরের উদ্দেশে দান
21পরে ইল্কানা প্রতি বছরের মত আবার তাঁর পরিবারের সবাইকে নিয়ে সদাপ্রভুর উদ্দেশে পশু-উৎসর্গ ও মানত পূরণ করতে গেলেন, 22কিন্তু হান্না গেলেন না। তিনি তাঁর স্বামীকে বললেন, “ছেলেটিকে বুকের দুধ ছাড়ানোর পর আমি তাকে নিয়ে সদাপ্রভুর সামনে উপস্থিত হব যাতে সে সারা জীবন সেখানেই থাকতে পারে।”
23তাঁর স্বামী ইল্কানা তাঁকে বললেন, “তোমার যা ভাল মনে হয় তা-ই কর। ছেলেটিকে দুধ না ছাড়ানো পর্যন্ত তুমি এখানে থাক। সদাপ্রভু যেন তাঁর প্রতিজ্ঞা পূরণ করেন।” কাজেই হান্না বাড়ীতেই রয়ে গেলেন এবং ছেলেটিকে দুধ না ছাড়ানো পর্যন্ত তার দেখাশোনা করতে থাকলেন।
24ছেলেটিকে দুধ ছাড়ানোর পর হান্না তিনটা ষাঁড়, আঠারো কেজি ময়দা, চামড়ার থলিতে করে এক থলি আংগুর-রস এবং ছেলেটিকে সংগে নিয়ে শীলোতে সদাপ্রভুর ঘরে গেলেন। ছেলেটি তখনও ছোট ছিল। 25তাঁরা সেখানে একটা ষাঁড় কেটে উৎসর্গ করলেন এবং ছেলেটিকে এলির কাছে নিয়ে গেলেন। 26হান্না বললেন, “হে আমার প্রভু, আপনাকে সাক্ষী রেখে আমি শপথ করে বলছি, আমিই সেই স্ত্রীলোক, যে এখানে আপনার সামনে দাঁড়িয়ে সদাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করেছিল। 27আমি এই ছেলেটিকে চেয়েই প্রার্থনা করেছিলাম, আর সদাপ্রভুর কাছে যা চেয়েছিলাম তা তিনি আমাকে দিয়েছেন। 28সেইজন্য ছেলেটিকে আমিও সদাপ্রভুকে দিলাম। সে যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন সদাপ্রভুরই থাকবে।” পরে তাঁরা সেখানে মাথা নীচু করে সদাপ্রভুর উদ্দেশে তাঁদের ভক্তি জানালেন।